জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহ ও তাদের চরিত্র | Astrological Planet and Character - Astro Luck

Breaking

September 9, 2018

জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহ ও তাদের চরিত্র | Astrological Planet and Character

গ্রহের কারকতা - চলুন জ্যোতিষ শাস্ত্রে ৯টি গ্রহ সম্বন্ধে কিছু আলোচনা করা যাক। জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহেরা  জন্মকুণ্ডলীতে বলবান বা দুর্বল অবস্থান দরুন জাতক জাতিকার ভাগ্যের শুভাশুভ ফলের নির্ণয় করা হয়। জ্যোতিষ শাস্ত্রে যেমন রশিদের একটি চরিত্র আছে তেমনি গ্রহদেরও একটি চরিত্র রয়েছে। জোতিষ বিচারের সময় এই গ্রহের চরিত্র এবং সাথে রাশির চরিত্র বিচার কর হয়ে থাকে।  কিন্তু একটা কথা মনেরাখতে হবে জাতক জাতিকার লগ্ন অনুসারে গ্রহের শুভাশুভ প্রভাব থাকবে। এবারে গ্রহগুলির চরিত্র বা কারকতা সম্বন্ধে জেনে নেয়াযাক।



রবি -  সমগ্র সৌর জগতের কেন্দ্র বিন্দু হল রবি তাই রবির জাতক জাতিকারা সকল সময় চাইবে সবাই তাকে ঘিরে থাকুক ও সকলকে সে চালনা করতে চায়। রবির জাতক বা জাতিকারা হবে রক্ত শ্যামবর্ণ ও এদের মধ্যে থাকবে পুরুষালি ভাব , এরা হবে ক্ষত্রিয়ের মতো পরিশ্রমী। সব সময় বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে এরা কোনোকিছুকে বিচার করেই গ্রহণ করে। রবির জাতক জাতিকাদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা, পিতৃত্ব ভাব থাকবে। এদের জীবনী শক্তি হবে প্রবল। সারির স্বাস্থা এদের ভালোই হবে। উচ্চপদ ও প্রভুত্ব এই জাতক জাতিকাদেড় সব থেকে প্রিয়। রাবির জাতক জাতিকারা অল্পেতেই মাথা গরম হবে। কিন্তু এই রবি যদি জন্ম কুণ্ডলীতে অশুভ হয় তবে জাতক জাতিকাদের মাথাতুলে দাঁড়ানো সুকঠিন  হয়েপড়ে এবং স্থায়ী ভাবে পতিষ্ঠিত হতে পারে না। 
                  
চন্দ্র - আমাদের জ্যোতিষ শাস্ত্রে রবির পরেই চন্দ্রের স্থান।  আমরা জানি বা দেখেছি মানব জীবনে ও আমাদের পৃথিবীর উপর চাঁদের একটি প্রভাব রয়ে
ছে। আমরা যেমন লগ্নকে কেন্দ্র করে সকল বিষয় বা ১২টি ভাব বিচার করি , তেমনি চন্দ্র থেকেও বিচার করা হয় ১২টি ভাব। তাহলে আশাকরি বুঝতেই পারছেন চন্দ্রের প্রভাব কতটা মানব জীবনে ও জোতিষ শাস্ত্রে। এছাড়াও জোতিষ শাস্ত্রের বেশিরভাগ বিষয়ই চন্দ্র থেকে গণনা করা হয়।

আমাদের জোতিষ শাস্ত্রে রবি পিতৃ কারাক হিসাবে ধরা হয় তেমনি চন্দ্রকে মাতৃ কারক ধরা হয়। চাঁদেরের কারোকতার  মধ্যে মায়ের স্নেহ ময়- মমতা ও মাতৃত্বতা।  চন্দ্রের মধ্যে রয়েছে বিশেষ অনুভূতি। এর মধ্যে আছে আবেগ , মান-অভিমান , একাগ্রতা , অনুভব করার ক্ষমতা , সৌন্দর্যতা ও ভ্রমণের ইচ্ছা। যারা চন্দ্রের জাতক  হবে তারা মিষ্টভাষী , চিন্তাশক্তি প্রবল থাকবে
এদের , সমাজ সেবক বা সেবিকা হয়ে থাকে। ভালো শিল্পী হতে পারে চন্দ্রের লোকেরা। অন্যের কষ্টে এদের মন কাঁদে।

চন্দ্র অশুভ হলে পাগলামি , মানসিক দুর্বলতা , ভারসাম্যহীন , আত্মহত্যা করার ইচ্ছা প্রকাশ করা।  চন্দ্র অশুভ  হলে লজ্জা পাওয়া বা লাজুকতা দেখাদেবে।  সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে পারবে না। এছাড়াও চন্দ্র অশুভ হলে , যে সময়ে অমাবস্যা বা পূর্ণিমা আসে তখন বিশেষ প্রভাব পর্বে। চন্দ্র দ্বারা রোগ - শরীরে জলের মাত্রা কমে যাওয়া , ফুফফুসের রোগ , গ্ল্যান্ডের কোনোরোগ , মহিলাদের জরায়ুর রোগ , ডিম্বাকোষ নষ্ট হয়ে যাওয়া , সব সময় ঠান্ডা লাগা , হাঁপানি রোগ , মূত্রাশয়ের রোগ , শরীরে বাত  কষ্ট পাওয়া ইত্যাদি রোগ দেখা দিতে পারে।

মঙ্গল - ববি ও চন্দ্রের পরেই পৃথিবীর উপর মঙ্গলের প্রভাব রয়েছে। মঙ্গল হলো যোদ্ধা বা সৈনিক। মঙ্গলের যেমন সব কিছু ভালো প্রভাব আছে তেমনি খারাপ প্রভাব ও রয়েছে। মঙ্গলের মধ্যে সৃষ্টি ও বিনাশ , শুভ ও অশুভ , কর্তব্য় করা ও কর্তাব্য় না করা সাবই আছে। জন্ম কুণ্ডলীতে মঙ্গল শুভ অবস্থান না থাকলে  জাতক বা জাতিকার তেজস্বীতা ও সাহস কম থাকবে।  সকল গ্রহদের মধ্যে মঙ্গলকে কুমার গ্রহ বলা হয় এবং এই গ্রহটি অত্যান্ত শক্তিশালী।
      জ্যোতিষ শাস্ত্রে নৈসর্গিক পাপগ্রহ হলো মঙ্গল। জন্ম কুণ্ডলীতে মঙ্গল শুভ গ্রহের সহিত যুক্ত না হলে শুভ ফল দিতে পারে না। মঙ্গল জন্মকুণ্ডলীতে শুভ হলে , স্বাধীনচেতা , সাহসী , বীরত্ব ভাব , ভূসম্পত্তি লাভ ও গৃহ লাভ , অঙ্কে দক্ষতা , শাস্ত্র জ্ঞান লাভ , চিকিৎসাশাস্ত্রে পারদর্শিতা , শিল্পকলায় নাম করা , সকল কার্যে জয় লাভ , কোনো ঋণ থাকলে তার থেকে মুক্তির পথ খোজ ইত্যাদি গুন্ গুলি থাকবে।
       মঙ্গল অশুভ হলে জামেলা-ঝঞ্জাট বাড়বে , দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকবে  , যুদ্ধ , মামলা - মোকদমা , নিষ্ঠূরতা , সকলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা , অস্ত্রোপচার হাওয়া , অকাল মৃত্যু , অধর্ম মূলক কাজ করা , চরিত্রে দস্যুবৃত্তি , নির্দ্বিধায় হত্যা করা , গুপ্ত রোগ দেখা দেয়া , ইত্যাদি ডান গুলি ফুটে ওঠে। মঙ্গলের প্রভাবে লোক সৈনিক , অস্ত্র চিকিৎসক , কারু শিল্পী হয়ে থাকে ও জীবনে নাম করে। মঙ্গলের প্রভাব যার ওপর আছে তাদের চোখ হবে গোলাকার , পিত্ত প্রকৃতির ,ব্রণ যুক্ত মুখমণ্ডল , শক্তিশালী বহু , তমোগুণ থাকবে ও কোঁকড়ানো মাথার চুল , নাক হবে সাধারণ।
       মঙ্গলের প্রভাবে অর্শ , ভগন্ধর , রক্ত আমাশয় , বহুমূত্র , মূত্রকৃচ্ছ , বসন্ত রোগ, ব্রণ হাওয়া , কুৎসিত দেখতে হাওয়া , মোটা হাওয়া , বাত ও পিত্ত সংক্রান্ত রোগ হতে পারে। মঙ্গলের প্রকৃতি ক্রূর, চঞ্চল , রক্ত চক্ষু দেখানো , ক্রোধী , পিত্ত রোগে ভোগ , গর্ভ করা , মঙ্গল উদার। তৃতীয়া , ষষ্ঠ , দশম ও একাদশ স্থানে মঙ্গল থাকলে জাতক বা জাতিকা পরাক্রম শালী হয়ে থাকে। লগ্নে , চাতুর্থে , সপ্তমে , অষ্টমে বা দ্বাদশে মঙ্গল থাকলে স্বামী ও স্ত্রী যেকোনো একজনকে হানি ঘটিয়ে থাকে বা সম্পর্খ নষ্ট হবে। মঙ্গলের এই অবস্থানকে মাঙ্গলিক বা ভৌম দোষ বলা হয়। মঙ্গল ভাতৃ কারাক গ্রহ হলেও তৃতীয় বা ভাতৃ স্থানে থাকলে ভ্রাতার হানি ঘটে কিন্তু মঙ্গল শুভ হলে বা শুভ গ্রহ দ্বারা যুক্ত হয়ে থাকলে  ভ্রাতৃ লাভ হয়।  লগ্নে মঙ্গল থাকলে জীবনে শান্তির অভাব ঘটে এবং পত্নী হীন ও দুর্ঘটনা ঘটায়।

বুধ -  জ্যোতিষ শাস্ত্রে বুধ গ্রহটিকে বালকের সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে এবং কুমার গ্রহ বলে ধরা হয়েথাকে। বুধের মধ্যে রয়েছে বালক সুলভ চপলতা , কর্মে চঞ্চলতা , কোনো কিছুর অনুকরণ করার ক্ষমতা। বুধের জাতক বা জাতিকাদের মধ্যে রয়েছে বালকের মতো সভাব ও সরল প্রকৃতি। জোতিষ শাস্ত্রে বুদ্ধ ও বোধের কারাক এই বুধ। বুধের প্রভাবে জ্ঞান বিজ্ঞান , কাব্য , সাহিত্য চর্চা , পুস্তক রচনা , জ্যোতিষ বিদ্যা , চিকিৎসা বিদ্যা , আইন জীব , গণিত বিদ্যায় পারদর্শিতা , বাক চাতুর্যতা , ব্যবসা-বাণিজ্য , সকল বিদ্যায় পান্ডিত্য , নিজেকে প্রকাশ করা ইত্যাদি। বিচার বিশ্লেষণ করা বুধেরই কাজ। বুধের মধ্যে বালক স্বভাব থাকার জন্যে মাঝেমধ্যে অত্যাধিক কৌতূহলের জন্যে সময় সময় বিবেচনা না করে কোনো কাজ করে থাকে।
    জন্ম কুণ্ডলীতে বুধ অশুভ হলে অস্থিরতা , মূর্খতা , উদাসীনতা ,বাচালতা খারাপ কোনো বাবস্যার সাথে যুক্ত হাওয়া ,নিচু কার্য করা , চুরি করা ইত্যাদি খারাপ প্রভাব দেখা যায়। আবার বুধ জন্ম কুণ্ডলীতে শুভ হলে রূপবান , সুন্দর চোখ , সুন্দর কেশ , কথা কম বলা , কিন্তু বায়ু রোগ ও কাফ রোগে কষ্ট পেতে পারে। বুধ শুভ হলে জাতক বা জাতিকা সব সময় হাস্য মুখর হয়ে থাকে।
     জন্ম কুণ্ডলীতে বুধ অশুভ হলে দাঁতের রোগ , মাথার রোগ , মৃগী , পাগলামি , স্নায়বিক দুর্বলতা , অজীর্ণ রোগ , স্মৃতিশক্তি হীনতা , বাক্য শক্তি হীন , জিভের কোনো রোগ দেখা দিতে পারে। বুধ যে যে জিনিস ইঙ্গিত করছে তা হলো - বাক শক্তি , জিহ্বা , বৃদ্ধি , ত্বক , পিত্ত , শরীরের নিম্ন অংশ ইঙ্গিত করে।     রাশিচক্রে বুধ ও চন্দ্র শুভ যোগ থাকলে জাতক বিদ্বান , বিদ্ধিমান , প্রতিভাবান ও স্মৃতিশক্তি বিশিষ্ট  হয়ে থাকে। বুধের আরেকটি গুন্ হলো এর মধ্যে আছে প্রবল উদ্ভাবনী শক্তি। জন্ম কুণ্ডলীতে লগ্নে বুধ থাকলে সেই জাতক বা জাতীয় মেধাবী , ভাদ্র প্রকৃতির ও সন্তান দ্বারা সুখ লাভ করে। কিন্তু যদি লগ্নে অশুভ বুধ অবস্থান করে তখন কোনো রোগ হলে তা কঠিন আকার নিতে পারে , যদিকিন কোনো শুভ গ্রহের দৃষ্টি না থাকে।

বৃহস্পতি - সৌরজগতে সকল গ্রহদের মধ্যে সব থেকে বৃহৎ গ্রহ বৃহস্পতি। জোতিষ শাস্ত্রে বৃহস্পতিকে গুরু বা গ্রহবিপ্র নাম বলা হয়ে থাকে। বৃহস্পতির প্রভাবে নৈতিক কর্তব পরায়ণ , সাধুতা , জ্ঞান লাভ করা , বাকপটুতা , পবিত্রতা , প্রজ্ঞা , বিবেক বোধ , শাস্ত্র জ্ঞান লাভ করা , চরিত্রবান,  আত্মশক্তি ইত্যাদি হয়ে থাকে। জন্ম কুণ্ডলীতে বৃহস্পতি শুভ হলে বা শুভ অবস্থায় থাকলে যতই কষ্ট দুঃখ আসুক , তার মধ্যে থেকেও  শুভ প্রভাব পাওয়া যাবে। আবার যদি বৃহস্পতি জন্ম কুণ্ডলীতে খারাপ থাকে তবে জীবনে নানা বিপর্যয় নেমে আসবে।
    জ্যোতিষশাস্ত্র মতে বৃহস্পতি  নৈসর্গিক শুভ গ্রহ। বৃহরপাতি হলো সত্ত্বগুনের আধার।  কোনো সত্যকে উপলব্ধি করার ক্ষমতা বৃহস্পতির আছে। বৃহস্পতি অশুভ হলে , ভণ্ডামি , মিথ্যেবাদী , অভিমান , শরীরে রোগের মাত্রা বাড়বে। বৃহস্পতি জন্ম কুণ্ডলী অনুসারে শুভ হলে জাতক সত্ত্বগুনের অধিকারী হয়ে থাকে , সত্যবাদী , শিক্ষক , উচ্চ পদের অধিকারী হয়েথাকে।  সমাজে এদের একটি স্থান থাকে, আর্থিক দিক থেকে সচ্ছলতা  থাকবে।
    জন্ম সময়ে বৃহস্পতি  অশুভ হলে হৃদয়ের রোগ , শ্বাস কষ্ট , কাসি , যকৃৎ এর রোগ , পেটের কোনো রোগ ও যক্ষা জাতীয় প্রভৃতি রোগ হতে পারে। বৃহস্পতি ইঙ্গিত করছে মানব দেহে খাদ্যনালী বা কণ্ঠনালী , হৃদয় , ফুসফুস , হস্ত , ধমনী , যকৃত , শরীরে মেদ , শ্বাসযন্ত্র , পিত্তকোষ , নাভী ও তলপেট।
    লগ্ন বা তানু ভাবে বৃহস্পতি থাকলে জাতক বা জাতিকা সুখী হয়।  দারিদ্র বা আর্থিক দিক থেকে কমজোরি লোকেদের সাহায্য করতে এরা পছন্দ করে। বৃহস্পতীর লোকেরা হবে আরাম প্রিয়। জ্ঞান থাকবে প্রচুর।

শুক্র -    পুরানে আছে , শুক্রকে  দৈত্যগুরু বলা হতো। জোতিষ শাস্ত্র মতে শুক্রকে ভোগ বিলাসের কারক বলে ধরা হয়। শুক্রের মধ্যে আছে কাম , প্রীতি , প্রেম , ভোগ করার ইচ্ছা ইত্যাদি রয়েছে শুক্রের চরিত্রের মধ্যে। কি ভাবে পার্থিব বস্তু ভোগ করা যায় তার পথ খোঁজা শুক্রের কাজ। বৃহস্পতি মধ্যে যেমন জ্ঞান অর্জনের আদমো ইচ্ছা ও অপার্থিব জগৎ নিয়ে থাকা। তেমনি শুক্রের মধ্যে রয়েছে পার্থিব জগৎ নিয়ে থাকার ইচ্ছা। জন্ম কুণ্ডলীতে শুভ শুক্রের প্রভাবে কামনা , শান্তি , প্রফুল্লতা , বিলাসিতা , সুখ , ঐশ্বর্য , সংগীত নিয়ে সাধনা করা , কাব্য নিয়ে চর্চা , শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত , উচ্চপদ লাভকরা , সে কবিতা লিখতে ভালো পারবে , চিত্রকর প্রভৃতি গুন্ দেখাযায়।
     আবার জন্ম কুণ্ডলীতে শুক্র অশুভ হলে লম্পট , বেশ্যাবৃত্তি , মদ্যপানে আসক্ত , ইন্দ্রিয় সুখ ভোগের ইচ্ছা , নিচ্ছি মন , ঘটক এর কাজ করা , খারাপ সঙ্গে মেশার ইচ্ছা , ভীতু  প্রভৃতি  খারাপ গুন্ দেখাযায়। শুক্র হলো নৈসর্গিক শুভগ্রহে। শুক্র রজোগুণের অধিকারী ও কাফ প্রকৃতির।
শুক্রের শুভ প্রভাবে জাতকের জন্ম হলে সততা থাকবে , সুন্দর সুঠাম দেহের অধিকারী , মাধ্যম আকৃতি , উজ্জ্বল চোখ , উন্নত নাসিকা , সুন্দর মুখমণ্ডল , বিলাসিতা প্রিয় হয়েথাকে। শুক্রের অশুভ প্রভাবে শুক্রজ পীড়া হয়ে থাকে যথা - যৌন ব্যাধি , উপদংশ , মূত্রকৃচ্ছ , বহুমূত্র , গর্ভাশয়ের রোগ , হাঁপানি , শ্লেস্মা জাতীয় পীড়া ইত্যাদি অশুভ।
       শুক্র দ্বারা মানব দেহের যে যে অংশ ইঙ্গিত করছে তা হলো , নাসারন্ধ্র , শুক্র , যকৃত , মাংসপেশী, অন্ডকোষ , ডিম্বাশয় , জনন যন্ত্রাদি। অশুভ শুক্র কখনোই শুভ ফল দিতে পারে না। সুতরাং জাতকের জন্মকুন্ডলী বিচার করতে হলে প্রথমে শুক্রের অবস্থান দেখে নেয়া উচিত যে গ্রহটি নীচস্থ , দুর্বল , অশুভ গ্রহ দ্বারা আক্রান্ত অথবা শত্রূর গৃহগত কিনা। লগ্ন ভাবে বা তনু ভাবে শুভ শুক্র থাকলে জাতক বা জাতিকা  সুন্দর দেখতে হবে এবং সকলেই এদের দিকে আকৃষ্ট হয়ে থাকে। আর শুক্র যদি অশুভ হয় বা অশুভ গ্রহ দ্বারা যুক্ত হয় তবে জাতক বা জাতিকা চরিত্রহীন হয়েথাকে।

শনি -  জোতিষ শাস্ত্রে শনি গ্রহটিকে অষ্টম গ্রহ ধরা হয়েথাকে এবং শনি গ্রহটিকে দুঃখদায়ক গ্রহও বলা হয়ে থাকে। শনি দূরদৃষ্টি ও পূর্বাভাস পাওয়ার ক্ষমতা আছে। জন্ম কুণ্ডলীতে শনি শুভ হলে ইহা জাতক বা জাতিকাকে সংযম শীল করে তোলে , তেমনি দৃঢ় মানসিকতা , অতিরিক্ত সাবধানী , সম্পদশালী , সংসারের দিকে ঝোক ও নজর থাকবে , সংযম , সন্ন্যাস , তীক্ষ্ন বুদ্ধি সম্পন্ন , পূজাপার্বনে মন থাকবে , ভূমি ও খনির মালিক হয়েথাকে। কিন্তু শনি অশুভ হলে দুঃখ-দুর্দশায় জীবন ভোরে যায় , পারিবারিক , সামাজিক ও মানসিক অশান্তিতে জীবন ভোরে যায় , শরীরে আলস্যতা দেখাদেবে , উৎসাহ হীন হয়েথাকে , বিদ্যাশিক্ষার অসফলতা বা মূর্খতা , অসহিষ্ণুতা , লোকের নাম নিন্দা করা , দুশ্চিন্তা করা , বন্ধু-বান্ধব কমথাকা , নিঃশাব্দ জায়গা পছন্দ করা ইত্যাদি দেখা যেতে পারে।
     জোতিষ শাস্ত্র মতে শনি নৈসর্গিক পাপগ্রহ ও তমো গুনের অদিকারী। শনির প্রভাবে জন্ম হলে রোগা , লম্বা , মাথায় কেশ কম হবে , ছোট চোখ , বিকৃত দাঁত , নাক হবে মোটা , কান হবে ছড়ানো , হিংস্র , কফ প্রকৃতির , রক্ত চক্ষু , মোটা নখ , বায়ু প্রকৃতির হয়ে থাকে।
       শনির প্রভাবে যা যা রোগ হয় - বধিরতা , উদারী রোগ , যকৃতের রোগ , বায়ু রোগ , শরীর কম্পন , পায়ের কোনোরোগ , প্লীহা জাতীয়  ইত্যাদি রোগ দেখাদিতে পারে। শনি ইঙ্গিত করে মানব শরীরে ডান কর্ণ , মস্তিস্ক , শিরা , স্নায়ু , মূত্রাশয় ও প্লীহা। যদি জন্ম কুণ্ডলীতে শনি শুভ হয় তবে জাতক বা জাতিকা পূজা-পার্বনের দিকে ঝোক থাকবে ও জাতক মহাপুরুষ হয়েথাকে। না না বিপদের মধ্যে থেকে শনি জাতক বা জাতিকাকে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু শনি যে রাশিতেই অবস্থান করুক না কেন কিছুনা কিছু বাধা বিঘ্ন দিয়েই থাকবে। লগ্নে শনি থাকলে মন সবসময় অসন্তুষ্ট থাকবে ও ঈর্ষা পরায়ণ হয়ে থাকে। অশুভ শনি শরীরে বাতের রোগ বাড়িয়ে দেবে।

রাহু  -   রাহু জ্যোতিষশাস্ত্রে একটি ছায়া গ্রহ হিসাবে পরিচিত। পুরানে রাহুকে দৈত্য ধরা হয়েথাকে। জোতিষ শাস্ত্রে রাহুর গতি সকল গ্রহের বিপরীত দিকে ( Aunty Clockwise)।  জন্ম কুণ্ডলীতে রাহু শক্তিশালী হলে জাতক বা জাতিকার চাহিদা কিছুতেই পূর্ণ হয় না। রাহু একাদশে থাকলে বা প্রবল হলে এবং সাথে শুভ গ্রহ দ্বারা যুক্ত হয় তখন জাতক বা জাতিকার মধ্যে বিশাল কর্মশক্তি ও সৌভাগ্যের অধিকারী হয়ে থাকে। জন্ম কুণ্ডলীতে রাহু শুভ জায়গায় অবস্থান করলে জাতক বা জাতিকা আনন্দ উপভোগ করবে , তার প্রচুর ঐশ্বর্য , রাজার মতো প্রভাবশালী এবং শত্রূজয়ী হয়ে থাকে।
   জন্ম পাত্রীকেয় রাহু অশুভ স্থানে থাকলে বা অশুভ গ্রহ দ্বারা দৃষ্ট হলে জাতক বা জাতিকার জীবনে দুঃখ কষ্টে ভোড়েওঠে , শরীরে রোগ বাড়বে , দাঙ্গা হাঙ্গামায় পড়তে হতেপারে , অতৃপ্ত আকাঙ্খায়  কষ্ট পেতে হবে , জীবনের সকল বিষয়ে ধ্বংস হয়েযাবে , মানসিকতা হবে হিংস্র প্রকৃতির হয়েথাকে। জোতিষ শাস্ত্রে রাহু নৈসর্গিক অশুভ গ্রহ।
   রাহুর প্রভাবে জন্মহলে বা রাহু লগ্নে থাকলে জাতকের শরীর রুগ্ন হয়। শরীরে রং সামান্য নীল বর্ণের হয়েথাকে। রাহু অশুভ হলে গ্যাস বা বায়ু রোগ ও অজীর্ণ রোগ হতে পারে। রাহু দ্বারা দেহভাগ মুখমণ্ডল ও শরীরের উপরের অঙ্গ। রাহু থেকেই পিত মাতার শুভ -অশুভ বিচার করা হয়েথাকে। জন্ম কুণ্ডলীতে রাহু মিথুন রাশিতে থাকলে জাতক বা জাতিকা দীর্ঘ জীবন লাভ করবে এবং  সৌভাগ্যশালী হয়ে উঠবে। বৃষ , কর্কট , সিংহ ও কন্যা রাশিতে রাহু অবস্থান করলে জাতক বা জাতিকা ভাগ্যবান হয়ে থাকে। যদি জন্ম কুণ্ডলীতে লগ্নভাবে বা তনুভাবে রাহু থাকে তবে সে শত্রূ জয়ী হবে।

কেতু -   পূরণে রাহুর শরীরকে কেতু বলে ধরা হতো। কেতুকে রাহুর অনুচর বলাহয়ে থাকে। জোতিষ শাস্ত্রে কেতুর রাহুর মাতনি বিপরীত দিকে গতি ( Aunty Clockwise)। কেতু হলো রাহুর শরীর বা ধর , তাই কেতুর দৃষ্টিশক্তি নেই। কেতুর দ্বারা কোনো শুভ ফল আশা করা যায় না। কেতুর যেহেতু মস্তক নেই তাই রাহুর মাতা সর্বনাশী চাহিদা নেই। জন্ম কুণ্ডলীতে কেতু যে রাশিতে বসে-আছে ও যে গ্রহের সাথে থাকবে , সেই গ্রহ বলবান বা শুভ হলে কেতুও শুভ ফল দিয়েথাকে। কেতু শুভ হলে কীর্তি , আনন্দ , ধনসম্পদএ ভরপুর , ধনী , সুখী , এরা হবে ধৈর্যশীল এবং এদের আধ্যাত্মিক শক্তি থাকবে বা লাভ করবে।
jjjj
  জন্ম কুণ্ডলীতে কেতু অশুভ হলে বা অশুভ গ্রহ দ্বারা যুক্ত ও দৃষ্টা হলে জাতক বা জাতিকা বিস্বাসঘাতকতা করতে পারে বা নিজেও কোনো বিশ্বাসঘাতকের কবলে পড়তে পারে। এদের মধ্যে অকৃতজ্ঞাতা , হৃদয়হীনতা , হটাৎ কোনো দুর্ঘটনা ঘটে , দুরারোগ্য ব্যাধি , গুল্মরোগ ইত্যাদি ব্যাধি হতে পারে। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে কেতুকে নৈসর্গিক পাপগ্রহ বলা হয়ে থাকে। রাহু ও কেতুর প্রভাবে জন্ম হলে সেই জাতক বা জাতিকার আকৃতি হবে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর  কিন্তু প্রচণ্ড বুদ্ধিমান ও চতুর হয়ে থাকে।      কেতু অশুভ প্রভাবে মূর্ছা যাওয়া , শরীরে ও মুখমণ্ডলে ব্রণ হাওয়া , চর্মরোগ , মহামারী , বসন্ত রোগ , প্লেগ জাতীয় সাংঘাতিক রোগ গুলি দেখা দিতে পারে। কেতুর মানব শরীরে যে অঙ্গগুলিকে ইঙ্গিত করে সেগুলি হলো - মেরুদণ্ড , নিম্নাঙ্গ ও স্নায়ু। লগ্নে কেতু অবস্থান করলে জাতকের রোগ শরীর , পত্নী সুখের নাশ হয়েথাকে কিন্তু বিদ্যা ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েথাকে। কেতু যে গ্রহের ঘরে( ক্ষেত্রে ) থাকবে বা আছে সেই গ্রহ শুভ ও বালবাক্ত অনুসারে শুভ ফল দিয়ে থাকবে। বৃশ্চিক রাশিতে রবি অবস্থান করলে কেতু বলবান হয়েথাকে। এছাড়াও কেতু বৃশ্চিক রাশিতে উচ্চস্থ হলে শুভ ফল দিয়ে থাকে।


*** সকল গ্রহগান জন্ম সময়ে জন্মকুন্ডলীতে উচ্চস্থ হলে সম্পূর্ণ শুভ ফল দেবে , মিত্র গ্রহ যুক্ত  বা দৃষ্ট , মিত্র গ্রহের সাথে থাকলে মধ্যম ফল দিয়ে থাকবে এবং কেতু নীচস্থ , শত্রূর গৃহে থাকলে বা দৃষ্টি দিলে , একসাথে অবস্থান করলে অশুভ ফল প্রদান করবে কেতু।         
        



No comments:

Post a Comment