শনির সাড়েসাতি ও তার প্রতিকার | Sani SadeSati and Remedies - Astro Luck

Breaking

September 3, 2018

শনির সাড়েসাতি ও তার প্রতিকার | Sani SadeSati and Remedies


শনির সাড়েসাতি কাকে বলে।
শনি সম্পূর্ণ রাশিচক্র পরিক্রমা করার সময় প্রতিটি রাশিতেই  প্রবেশ করে এবং ওই রাশিতে আড়াই বৎসরের জন্যে অবস্থান করে। আমাদের জোতিষ শাস্ত্রে শনিদেবকে সম্পূর্ণ রাশিচক্রকে প্রদক্ষিণ করতে শনিদেবের সময় লাগে ৩০ বৎসর। সুতরাং সেই বিচারে আমাদের ১২টি রাশির প্রত্যেক রাশিতে শনিদেব ২বৎসর  ৬মাস পর্যন্ত  স্থিত থাকে। এই পরিক্রমান কালে যে রাশিতে শনিদেব অবস্থান করে সেখানে তিনি আড়াই বৎসরের জন্যে থাকে। এই অবস্থানের সময় যে রাশিতে শনি অবস্থান করছে তার ডানদিকের ঘর ও বাঁদিকের ঘর এ প্রভাব ফেলে অথাৎ রাশিটির দ্বাদশ ও দ্বিতীয় ঘরে প্রভাব বিস্তার করে। মানে যদি কর্কট রাশিতে শনি অবস্থান করে তাহলে শনির সাড়েসাতি ধরা হবে মিথীন রাশির তৃতীয় চরণ (শেষ চরণ) , কর্কট রাশির দ্বিতীয় চরণ এবং সিংহ রাশির প্রথম চারণ মানে শনির সাড়েসাতি শুরু হচ্ছে বুঝতে হবে। শনিদেব প্রতিটি রাশিতেই আড়াই বৎসর করে ৩টি রাশিতে মোট সাড়েসাত বছর বিচরণ করেন , তাই শনিদেবএর পরিক্রমাকে জোতিষ শাস্ত্রে শনির সাড়েসাতি বলাহয়ে থাকে।  এবারে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা যাক কোন রাশিতে শনি আসলে কোন কোন রাশির শনির সাড়েসাতি প্রভাব পড়বে।
১) শনি যখন গোচরে মীন রাশি , মেষ রাশি ও বৃষ রাশিতে অবস্থান করে তখন মেষ রাশির জাতক জাতিকাদের উপর শনির সাড়েসাতির প্রভাব থাকে।
২) গোচরে শনি যখন মেষ রাশিতে , বৃষ রাশিতে ও মিথুন রাশিতে পরিক্রমা করে তখন বৃষ রাশির জাতকদের উপর শনির সাড়েসাতি চলছে বুঝতে হবে।
৩) শনিদেব যখন গোচরে বৃষ রাশির , মিথুন রাশি ও কর্কট রাশিতে অবস্থান করে তখন মিথুন রাশির উপরে শনির সাড়েসাতির প্রভাব আছে জানতে হবে।
৪) গোচরে শনিদেব মিথুন রাশি , কর্কট রাশি ও সিংহ রাশির উপর দিয়ে পরিক্রমা করে তখন বুঝতে হবে কর্কট রাশির জাতক জাতিকাদের সাড়েসাতি শুরু হয়েছে।
৫) শনি গোচরে কর্কট রাশিতে , সিংহ রাশিতে ও কন্যা রাশিতে অবস্থান করে তখন সিংহ রাশির জাতক জাতিকাদের শনির সাড়েসাতি প্রভাব শুরু হয়।
৬) শনি গোচরে সিংহ, কন্যা এবং তুলা রাশির উপর অবস্থান করলে কন্যা রাশির লোকেদের সাড়েসাতি ধরা হবে। 
৭) কন্যা ,তুলে ও বৃশ্চিক রাশির উপর দিয়ে শনি যখন গোচর করবে তখন তাকে তুলা রাশির সাড়েসাতি বিলে দোর হবে। 
৮) শনিদেব যখন তুলা, বৃশ্চিক ও ধনু রাশির উপর দিয়ে গোচর করবে তখন তাকে বৃশ্চিক রাশির সাড়েসাতি চলছে ধরা হবে। 
৯) বৃশ্চিক, ধনু ও মকর রাশির উপর দিয়ে যখন শনিদেব গোচর করবে তাকে ধনু রাশির সাড়েসাতি চলছে ধরা হবে। 
১০) শনিদেব যখন গোচরে ধনু , মকর ও কুম্ভ রাশির উপর দিয়ে যাবে তখন মকর রাশির সাড়েসাতি ধরা হবে। 
১১) মকর, কুম্ভ ও মীন রাশির উপর দিয়ে শনিদেব সঞ্চারিত হলে তাকে তখন কুম্ভ রাশির সাড়েসাতি বলা হয়ে থাকে। 
১২) কুম্ভ , মীন ও মেষ রাশির উপর দিয়ে যখন শনিদেব সঞ্চারিত হয় তখন তাকে মীন রাশির সাড়েসাতি হবে। 

জন্ম রাশি অনুসারে সাড়েসাতির বিশেষ অশুভ সময়।            

  
সাড়েসাতির ঘাতক প্রভাব একটি রাশির ক্ষেত্রে সাড়েসাত বৎসরের জন্যে সম্পূর্ণ ভাবে থাকে না। প্রতিটি রাশির একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে যখন কুবি খারাপ সময় সৃষ্টি হয়। জেনে নেয়া যাকরাশি গত ভাবে কোন কোন জায়গায় শনি মারক হবে। 
১) মেষ রাশির ঘাতক সময় সাড়েসাতির দ্বিতীয় চরণ । 
২) বৃষ রাশির প্রথম চরণ ঘাতক বিবেচিত হয়। 
৩) মিথুন রাশির দ্বিতীয় চরণ ঘাতক হয়ে থাকে। 
৪) কর্কট রাশির পক্ষে দ্বিতীয় চরণ ও তৃতীয়া চরণ ঘাতক।   
৫) সিংহ রাশির পক্ষে ঘাতক বিবেচিত হবে প্রথম চরণ এবং দ্বিতীয় চরণ।
৬) কন্যা রাশির ঘাতক বিবেচিত হয় সাড়েসাতির প্রথম চরণে।
৭) তুলা রাশির জাতক জাতিকার তৃতীয় চরণ হল ঘাতক সময়।
৮) বৃশ্চিক রাশির জাতক জাতিকার ঘাতক সময় দ্বিতীয় চরণ ও তৃতীয় চরণ।
৯) প্রথম চরণ ও দ্বিতীয় চরণ ঘাতক হয় ধনু রাশির ক্ষেত্রে।
১০) মকর রাশির ক্ষেত্রে তৃতীয় চরণ হয় ঘাতক।
১১) কুম্ভ রাশির জাতক জাতিকাদেড় উপরে সাড়েসাতির কোন ঘাতক প্রভাব নেই।  এই রাশি শনির সাড়েসাতির প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
১২) মীন রাশির জাতকের তৃতীয় চরণ ঘাতক সময়।


কোন চরণে শনির সাড়েসাতি কি কি ফল দান করে।  




ইতিপূর্বে শনির সাড়েসাতি সময় কোন রাশি কোন ভাগে শনি ঘাতক হয় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার দরকার যে এই ভাগ কিভাবে বিচার হয় এবং সেই ভাগে তার ফল দান কি হয় ? উপরের তালিকা অনুসারে যে রাশির যে সময়টি ঘাতক বলে বিবেচিত হয়েছে সেই সময়টা জাতক জাতিকার কেমন যাবে তারই আলোচনা করা হচ্ছে নীচের সরণীতে। এবারে তিনটি চরণ বিচার করা যাক।

১) প্রথম চরণ -   যে সমস্ত রাশির ক্ষেত্রে প্রথম চরণ কে ঘাতক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে , সেই সমস্ত জাতকের ক্ষেত্রে এই সময়টিতে  আয়ের থেকে ব্যয় হয় বেশী। অর্থের আমদানি থাকে কম।  হঠাৎ ধন হানির কারণে জাতককে প্রচুর অসুবিধার পড়তে হতে পারে।  চোখের সমস্যা ও শরীর স্বাস্থ্যের সমস্যায় জাতক হয়রানি হাওয়ার সম্বাবনা থাকে।



২) দ্বিতীয় চরণ -  যে সমস্ত রাশিতে দ্বিতীয় চরণ ঘাতক বলা হয়েছে সেই সমস্ত জাতক জাতিকাদের ক্ষেত্রে এই সময়টিতে সম্পত্তি হানি , শত্রূ ভয় , আর্থিক সমস্যা , আত্মীয় বন্ধুদের সাথে বিবাদ , কাজকর্মে অচলতা , গৃহ থেকে দূরে থাকা , সংসারে সুখের অভাব ঘটবে , টাকা পয়সা বেরিয়ে যাবে , অসফলতা সম্মূখীন বার বার হতে হবে। বাড়ি ছেড়ে দূরে থাকার ইচ্ছা বৃদ্ধি পেতে পারে এই সময়ে।




৩) তৃতীয় চরণ -  যে সমস্ত রাশির ক্ষেত্রে তৃতীয় চরণ ঘাতক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে সেই সমস্ত জাতক জাতিকাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় , উপার্জন কমে যাওয়া , সুখের অভাব , অহেতুক ঝগড়া - ঝামেলায় জড়িয়ে পড়া। দারিদ্রতার সম্মুখীন হওয়া , অশুভ তন্ত্রের ও নজর লাগা বা উপরি  হওয়ার লাগার সম্ভাবনা থাকে এই সময়ে।



*** সকল রাশির জাতক জাতিকাদের পক্ষে এই সময়েই বিবাহ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।সুতরাং এখন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে শনির সাড়েসাতি চলাকালীন সম্পূর্ণ সময়ে জাতক জাতিকাদের নিরাশায় ভুগতে হয় না। কিন্তু বর্তমানে কিছু লোক শনির সাড়েসাতি নিয়ে অকারণ ভয় সৃষ্টি করেই চলেছে।



শনির সাড়েসাতিতে কি সকল রাশির ব্যক্তিদের শুধুই ক্ষতি হয়।                                                 বর্তমান সময়ে শনির সাড়েসাতি নিয়ে এমন প্রচার করা হচ্ছে যে স্বাভাবিক কারণেই মানুষের মনে একটি ভয় তৈরী করা হচ্ছে।  এমনকি এটাও বলা হচ্ছে যে এই সাড়েসাতিতে জাতকের বা জাতিকার মৃত্যু কারক হতে পারে এবং তাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে হয়ে যাবে। সাড়েসাতি মানেই খালি ক্ষতি ছাড়া লাভ কিছুই নেই , আমার মতে এই ধারণা গুলি সম্পূর্ণ ভুল। শনির সাড়েসাতিতে কি প্রভাব পর্বে তা আগেই বর্ণনা করেছি। এছাড়াও জাতক জাতিকাদের জন্মকুণ্ডলীতে শনিদেব কোন ভাবে অবস্থান করছে সেটিও দেখা উচিত।  শনি শুধুই যে অশুভ তা নয় , কোনো কোনো জাতক জাতিকাকে তিনি রাজাও করে দিতে পারে। এখানে একটি উধাহরণ মাধ্যমে বোঝা যাক যে শনিদেব  জাতক জাতিকার কুণ্ডলীতে কোন অবস্থায় থাকলে কতটা শুভ বা কতটা অশুভ।



***  জাতকের জন্মকুণ্ডলীতে শনি যদি ত্রিকোণ , লগ্ন , নিজের গৃহে , ষষ্ঠ বা আয় ভাবের অধিপতি হয় ও মিত্র গ্রহ দ্বারা দৃষ্ট হয়ে জাতক জাতিকার জন্ম কুণ্ডলীতে তৃতীয় , পঞ্চম , ষষ্ঠ , নবম ও একাদশে অবস্থান করে তবে এই অবস্থায় শনি জাতককে ধনী , বিত্তশালী , ঐশ্বর্যশালী এবং প্রভাবশালী করতে পারে।  জাতক জাতিকা প্রচুর ধন-সম্পদশালী  হয়। আবার এই শনি জাতক জাতিকার  জন্ম কুণ্ডলীতে  যদি দ্বিতীয় স্থান , সপ্তম স্থান দ্বাদশ ভাবের  অধিপতি হয় অশুভ  দ্বারা দৃশ্য বা যুক্ত  থাকে তবে সাড়েসাতির সময় জাতক জাতিকাদের প্রচুর কষ্ট পেয়ে থাকে এবং অশুভ সময়ের মধ্যে দিয়ে দিন কাটে। কাজেই এই থেকে বোঝাযায় সাড়েসাতি  ভালো প্রভাব ও খারাপ প্রভাব দুটোই আছে।



রাশি ও ভাব অনুসারে সাড়েসাতির প্রতিকার।


রাশি ও ভাব অনুসারে জাতক জাতিকারা সাড়েসাতি অশুভ প্রভাব থেকে কিভাবে বাঁচা যায় তার কিছু পদ্ধতি নিচে দেওয়া হল। প্রতিটি রাশির ওপর দিয়ে তিনটি চরণে কোন সময় কি কি পদ্ধতি মেনে চলতে হবে যাতে  সাড়েসাতি প্রভাব থেকে বাঁচা যায় এবারে আলোচনা করা হচ্ছে।


মেষ রাশির জাতক বা জাতিকা হলে। 


প্রথম চরণ - এই রাশির জাতক জাতিকারা সাড়েসাতির প্রথম আড়াই বছর ( শনিদেব মীন রাশিতে থাকবে ) নিচেদেয়া নিয়ম গুলি মেনে চল্লে অশুভ প্রভাব কমতে পারে।
ক) নতুন মাটির পাত্রে সরিষার তেল নিয়ে শনিবার স্রোতের জলে ভাসিয়ে দিলে সাড়েসাতি প্রভাব অনেক অংশে কমে যায়।

খ ) এই সময়ের মধ্যে মাদক দ্রব্য গ্রহণ না করলে শুভ ফল প্রাপ্তি হবে।
গ ) প্রতি শনিবার মোওয়া বা শুকনো নারকেল শনি মন্দিরে বা কালী মন্দিরে দান করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।


দ্বিতীয় চরণ -  যদি শনিদেব মেষ রাশির জাতক জাতিকাদের উপর দিয়ে গমন করেন তখন নিচে  দেয়া নিয়ম গুলি মেনে চল্লে সাড়েসাতির অশুভ প্রভাব অনেক অংশে কমে যাবে।


ক) নিয়মিত গনেশ এর পূজা আরাধনা করলে এই সময়ের প্রভাবকে  কামানো যেতে পারে।
খ ) কোনো খুশির খবর আসলে নুন বা নোনতা জাতীয় খাবার  কাউকে খাওয়ালে  উপকার পাওয়া যাবে।
গ ) কোনো শুভ তিথিতে কুমারী কন্যার পূজা করলে সাড়েসাতির প্রভাব কমানো যায়।
ঘ ) প্রতি শনিবার বাঁদরকে কলা বা অন্য কোনো খাবার দিলে অশুভ প্রভাব কেটেযাবে।


তৃতীয় চরণ -  যখন শনিদেব বৃষ রাশিতে অবস্থান করে তখন তাকে সাড়েসাতির শেষ আড়াই বছর বা  তৃতীয় চরণ  বলা হয়।


ক) ঘোড়ার নালের আংটি তৈরী করে ডান হাতে অনামিকাতে ধারণ করতে হবে তবে অশুভ প্রভাব কাটবে।
খ ) বিউলির ডাল প্রতি শনিবার হাতের এক মুঠো নিয়ে স্রোতের জলে বা পুকুরের জলে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং আরেক মুঠো বিউলির ডাল পাখি কে খাওয়াতে হবে।
গ ) মঙ্গলবার সকালে স্নান করে উঠে শুদ্ধ বস্ত্রে হনূমান চল্লিশা পাঠ করলে সাড়েসাতির প্রভাব সম্পূর্ণরূপে কমানো সম্ভব হয়।
ঘ ) শনিবার মাছ ও মাংস না খাওয়াই ভালো , এতে সুফল বেশি লাভ করা যায়।


বৃষ রাশির জাতক বা জাতিকা হলে। 

প্রথম চরণ -  শনি যখন জন্ম কুণ্ডলীতে মেশ রাশিতে অবস্থান করে তখন তাকে বৃষরাশির প্রথম চরণ বলাহয়। এই সময়ে যা যা নিয়ম মানতে হবে তা হল।

ক) ঘোড়ার নালের আংটি তৈরী করে ডান হাতে অনামিকাতে ধারণ করতে হবে তবে অশুভ প্রভাব কাটবে।

খ) এই সময়ে মাদক দ্রব্য থেকে দূরে থাকলে শুভ ফল পাওয়া যাবে।

) প্রতি শনিবার শুকনো  নারকেল শনি মন্দিরে বা কালী মন্দিরে দান করলে  সাড়েসাতির অশুভ প্রভাব থেকে বাঁচা যায়।

ঘ) প্রতি শনিবার মাছ বা মাংস না খাওয়াই ভালো।

ঙ) প্রতি দিন শিব লিঙ্গমের মাথায় জাল দিয়ে " ওঁ  নমঃ শিবায়ঃ " মংত্র ৩ বার বলতে হবে মনে মনে।



দ্বিতীয় চরণ -  শনি গ্রহটি যখন বৃষ রাশির উপরে থাকবে বা বৃষ রাশিতে প্রবেশ করবে তখন তাকে দ্বিতীয় চরণ বলা হয়। এই সময়টিতে যা যা নিয়ম মানতে হবে তা হল।

ক) প্রতি শনিবার বট গাছের গোড়ায় কাঁচা দুধ ঢালতে হবে।

খ) শনিবার দিন কালো কুকুরকে খাবার খাওয়ালে সাড়েসাতি প্রভাব কমেযাবে অনেক অংশে।

গ) হনুমানজির পূজা করলে সাড়েসাতির প্রভাব কমেযাবে।



তৃতীয়া চরণ -   যখন শনি গ্রহটি  মিথুন রাশিতে অবস্থান করবে তখন বৃষ রাশির ক্ষেত্রে তৃতীয়া চরণ ধরা হবে। এই সময়ে যে যে নিয়ম মানতে হবে তা হলো।

ক) মঙ্গলবার হনুমানজির মন্দিরে পুজা দিতেহবে ও হনূমান চালিশা শুনতে হবে।

খ) ঘোড়ার খুরের আংটি মধ্যমাতে ধারণ করতে হবে।

গ) প্রতি মঙ্গলবার পটোল বর্ণের সিঁদুর হনূমান মন্দিরে দান করতে হবে।



মিথুন রাশির জাতক বা জাতিকা হলে।প্রথম চরণ -   শনি যখন বৃষ রাশিতে অবস্থান করবে তখন মিঠুন রাশির উপর সাড়েসাতির প্রথম চরণ ধরা হয়। এই সময়ে -
ক)  শনি বড়দিন শনি মন্দিরে  পূজা দিয়ে  এসে শনি যন্ত্রম ধারণ করতে হবে।
খ )  ২টি শুকনো নারকেল নদীর স্রোতে ভাসিয়েদিলে সাড়েসাতির প্রভাব কমেযাবে।
গ )  প্রতি শনিবার দারিদ্র লোককে দান করতে হবে ও বাড়িতে গনেশের পূজাও করতে হবে।


দ্বিতীয় চরণ -  শনি যখন মিথুন রাশিতে থাকবে তখন তাকে সাড়েসাতির দ্বিতীয় চরণ বলা হয়।  এই সময়ে যা করতে হবে।


ক)  প্রতি শনিবার শিবলিঙ্গমের মাথায় দুধ ঢালতে হবে।
খ )  এই সময়ে শনি যন্ত্রম ধারণ করতে হবে।
গ )  বট গাছের গোড়ার মাটিতে দুধ দিয়ে ভিজতে হবে , তারপর সেই ভেজা মাটি নিজের কপালে তিলক পড়তে হবে।


তৃতীয় চরন -  শনি যখন কর্কট রাশিতে অবস্থান করবে তখন তাকে তৃতীয় চরণ বলা হয়। এই সময়ে যা যা  করতে হবে।


ক)  নৌকার পেরেক  দিয়ে আংটি বানিয়ে মাধ্যমতে ধারণ করলে শুভ ফল পাওয়া যায়।
খ )  প্রতি দিন হনূমান চালিশা শুনতে হবে বা পড়তে হবে।
গ )  শনিবার মাদক দ্রব্য থেকে দূরে থাকতে হবে।


কর্কট রাশির জাতক বা জাতিকা হলে।প্রথম চরণ -  মিথুন রাশিতে শনি যখন অবস্থান করবে তখন তাকে কর্কট রাশির প্রথম চরণ বলা হবে।এই সময়ে কি কি করতে হবে তা জেনেনি।


ক)  ২টি  নারকেল নদীর স্রোতের জলে ভাসিয়ে দিতে হবে।
খ )  নৌকার পেরেক বা লোহা দিয়ে আংটি বানিয়ে মধ্যমাতে ধারণ করতে হবে।
গ )  প্রতি শনিবার কুমারী মেয়েকে খাবার ও লাড্ডু দিয়ে ভোজন করতে হবে।
ঘ )  প্রতি সোমবার শিব লিঙ্গমের মাথায় ৩ বার কাঁচা দুধ ও জল ঢালতে হবে।


দ্বিতীয় চরণ - কর্কট রাশিতে শনি অবস্থান করলে তখন সাড়েসাতির দ্বিতীয় চরণ ধরা হবে। এই সময়ে যে যে প্রতিকার করা হয়।


ক) যেকোন শনিবার একটি পাত্রে সামান্য সুরমা নিয়ে নির্জন স্থানে পুঁতে দিতে হবে বা নদীর জলে ভাসিয়ে দিতে হবে।
খ )  শনিবার ১০৮ টি ফটো এটার গুল্লি বানিয়ে নাদির জলে বিসর্জন দিতে হবে।
গ )  প্রতি শনিবার দারিদ্র লোককে দান করতে হবে ও বাড়িতে গনেশের পূজাও করতে হবে।
ঘ )  কোন অনুষ্ঠান বাড়িতে মিষ্টান্ন দান করবেন না।


তৃতীয় চরণ -  শনি গ্রহটি যখন সিংহ রাশিতে  অবস্থান করবে তখন কর্কট রাশির সাড়েসাতির তৃতীয়া চরণ ধরা হবে। এই সময়ে শনির প্রভাব থেকে বাঁচতে যা যা করতে হবে।


ক) শনিবার এক শিশি মাদক স্রোতের জলে বিসর্জন দিতে হবে।
খ ) হনূমান চালিশা প্রত্যাহা পাঠকরতে হবে বা শুনতে হবে ও শনি যন্ত্রম ধারণ করতে হবে। 
গ ) নৌকার পেরেক দিয়ে আংটি বানিয়ে ডানহাতে মাধ্যমতে ধারণ করতে হবে।

সিংহ রাশির জাতক বা জাতিকা হলে।
প্রথম চরণ -  শনি দেব যখন কর্কট রাশিতে অবস্থান করবে তখন সিংহ রাশির উপর সাড়েসাতির প্রথম চরণ ধরা হবে। এই জামাকে যা যা নিয়ম মানতে হবে।
ক) নতুন একটু মাটির পাত্রে সরিষার তেল নিয়ে প্রতি শনিবার স্রোতের জলে ভাসিয়ে দিতে হবে।
খ ) ২টি শুকনো নারকেল শনি মন্দিরে বা কালী মন্দিরে দেন করতে হবে।
গ ) মাদক দ্রব্য সেবন না করে ভালো সাথে শনিবার নিরামিষ খেতে হবে।


দ্বিতীয় চরণ -  সিংহ রাশির উপর যখন শনি দেব অবস্থান করবে তখন তাকে সাড়েসাতির দ্বিতীয় চরণ বলা হবে। এই সময়ে যা যা নিয়ম মানতে হবে।


ক)  নিয়মিত গনেশ পূজা করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
খ )  শনিবার ১০৮ টি আটার গুল্লি বানিয়ে মাছকে খাওয়ালে বা জলে বিসর্জন করলে শুভ ফল পাওয়া যাবে।
গ )  শনিবার কোনো দারিদ্রকে দেন করলে শুভ ফল পাওয়া যাবে।
ঘ )  কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে মিষ্টান্ন কোনো কিছু দান না করাই ভালো।


তৃতীয়া চরণ -  কন্যা রাশিতে যখন শনিদেব অবস্থান করবে তখন তাকে সিংহ রাশির তৃতীয়া চরন  বলা হবে।


ক) কালো মাষকলাই ( কালো বিউলির ডাল ) এক মুঠো নিয়ে স্রোতের জলে বা পুকুরে পশ্চিম মুখ করে দাঁড়িয়ে বিসর্জন দিতে হবে বা ছাদে ছড়িয়ে দেবেন যাতে পাখি খেতে পারে।
খ )  কালো মহিষের পায়ের খুর দিয়ে একটি আংটি বানিয়ে মধ্যমতে ধারণ করতে হবে।
গ )  শনিবার ও মঙ্গলবার সকালে  স্নান করে পরিষ্কার বস্ত্র পরে হনূমান জীর পূজা করে হনূমান চালিশা শুনতে হবে।রণ করতে হবে।


কন্যা রাশির জাতক বা জাতিকা হলে।প্রথম চরণ -  যখন শনিদেব সিংহ রাশিতে অবস্থান করবে সেই সময়টিকে কন্যা রাশির প্রথম চরণ বলা হবে। এই সময়ে কিছু নিয়ম মানলে শুভ লাভ হবে।


ক)  ঘোড়ার খুরের আংটি বা ইন্দ্র নীলা মধ্যমাতে ধারণ করতে হবে।
খ )  প্রতি শনিবার কাক কে হাত রুটি বানিয়ে খাওয়াতে হবে।
গ )  প্রতি শনিবার কালী বা শনি মন্দিরে দান ও পূজা করতে হবে।
ঘ )  প্রতি দিন ঘরে দুর্গা পূজা করতে হবে তাহলে সাড়েসাতির প্রভাব কেটে যায়।


দ্বিতীয় চরণ -  শনি দেব যখন কন্যা রাশিতে অবস্থান করবে তখন হবে সাড়েসাতির দ্বিতীয় চরণ। এই সময়ে সাড়েসাতি থেকে বাঁচার উপায়।


ক)  প্রতি শনিবার বটগাছের গোড়ায় কাঁচা দুধ ঢালতে হবে।
খ ) প্রতি দিন মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করতে হবে , তাহলে সাড়েসাতির প্রভাব অনেক অংশে কমে যাবে।
গ )  কোনো প্রতিবন্ধী লোকে সামান্য কিছু দান করলে লাভ হবে।
ঘ )  শনিবার শনি যন্ত্রম বা ইন্দ্র নীলা ধারণ করতে হবে।


তৃতীয় চরণ -  তুলা রাশিতে শনিদেব যখন অবস্থান করবে তখন তাকে সাড়েসাতির শেষ চরণ বা তৃতীয় চরণ বলা হবে। এই সময়ে যা যা নিয়ম মানতে হবে।


ক)  যেকোনো একটি শনিবার এক শিশি মদ নিয়ে স্রোতের জলে বিসর্জন দিতে হবে।
খ )  হনূমান চালিশা একটি বই , মঙ্গলবার হনূমান মন্দিরে দান করতে হবে।
গ )  মহিষের পায়ের খুড় ধারণ করতে হবে বা বাড়িতে রাখতে হবে।
ঘ )  শনিবার নিরামিষ ভোজন করা ও মাদক দ্রব্য গ্রহণ না করাই ভালো।


তুলা রাশির জাতক বা জাতিকা হলে।


প্রথম চরণ -  শনিদেব যখন কন্যা রাশিতে থাকবে তখন তাকে সাড়েসাতির প্রথম চরণ বলা হবে। এই সময়টিতে যা যা করতে হবে।

ক)  প্রতিদিন হনূমান চালিশা পাঠ করতে হবে বা  শুনতে হবে।
খ )  ২টি শুকনো নারকেল নদীর জলে ভাসালে সাড়েসাতির প্রভাব কাটবে।
গ )  প্রতি শনিবার কাককে এটার তৈরী রুটি খাওয়ালে শুভ ফল পাওয়া যাবে।
ঘ )  ইন্দ্র নীলা বা কালো ঘোড়ার নালের আংটি ধরেন করতে হবে।


দ্বিতীয় চরণ - তুলা রাশিতে শনিদেব যখন অবস্থান করবে তখন তাকে দ্বিতীয় চরণ বলা হয়। এই সময়ে যা যা নিয়ম মানতে হবে তা হলো।


ক) একটি কালো কুকুর এনে বাড়িতে পুষলে বা বাড়ির আশেপাশে কালো কুকুর থাকলে থাকে খাওয়ালে শুভ ফল পাওয়া যাবে।
খ )  ইন্দ্রনীলা বা শনি যন্ত্রম ধারণ করতে হবে।
গ ) বোট গাছের গোড়ার মাটিতে কাঁচা দুধ দিয়ে ভিজিয়ে সেই মাটি দিয়ে নিজের কপালে তিলক পরলে সুফল লাভ হয়।


তৃতীয় চরণ -  বৃশ্চিক রাশিতে শনিদেব অবস্থান করে তখন তা তুলে রাশির তৃতীয়া চরণ বলা হবে। এই সময়ে যা যা নিয়ম মানতে হয়।


ক)  প্রতি শনিবার বিউলির ডাল স্রোতের জলে ভাসিয়ে দিতে হবে।
খ )  প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার হনূমান চালিশা পড়তে হবে বা শুনতে হবে।
গ )  প্রতি শনিবার শিব লিঙ্গমের মাথায় কাঁচা দুধ ও জল ঢালতে হবে।


বৃশ্চিক রাশির জাতক বা জাতিকা হলে। 
প্রথম চরণ -  তুলা রাশিতে শনিদেব অবস্থান করার সময়টিকে বৃশ্চিক রাশির প্রথম চরণ বলে ধরা হবে।  এই সময়ে যে যে নিয়ম মানতে হবে।


ক)  একটি মাটির পাত্রে সরিষার তেল রেখে প্রতি শনিবার স্রোতের জলে ভাসিয়ে দিতে হবে।
খ )  এই সময়ে মাদক ও আমিষ জাতীয় খাবার খাওয়া বারণ।
গ )  প্রতি শনিবার ২টি নারকেল শনি মন্দিরে বা কালী মন্দিরে দেন করতে হবে।


দ্বিতীয় চরণ -  শনিদেব বৃশ্চিক রাশিতে অবস্থান করলে তখন তাকে দ্বিতীয় চরণ ধরা হবে। এই সময়ে যে যে নিয়ম মানতে হবে।


ক)  প্রতিদিন গানপাতির পূজা করলে সাড়েসাতির প্রভাব কেটে যায়।
খ )  মঙ্গলবার ৮টি আটার গুল্লি বানিয়ে জলে বিসর্জন দিলে শুভ ফল পাওয়া যাবে।
গ )  ইন্দ্রনীল বা ঘোড়ার খুরের আংটি মাধ্যমেতে ধারণ করতে হবে।


তৃতীয়া চরণ -  ধনু রাশিতে শনিদেব যখন অবস্থান করবে তখন তৃতীয় চরণ বলা হবে। এই সময়ে যে যে নিয়ম মানতে হবে।


ক)  মহিষের পায়ের খুড় ধারণ করতে হবে বা বাড়িতে রাখতে হবে।
খ )  প্রতি শনিবার বিউলির ডাল স্রোতের জলে ভাসিয়ে দিতে হবে।
গ )  প্রতিদিন হনূমান চালিশা পাঠ করতে হবে বা  শুনতে হবে।


ধনু রাশির জাতক বা জাতিকা হলে।প্রথম চরণ - শনিদেব বৃশ্চিক রাশিতে যখন অবস্থান করবে সেই সময়টিকে ধনু রাশির উপর  সাড়েসাতির প্রথম চরণ ধরা হবে। এই সময়ে নিয়ম মানতে হবে।


ক)  কুমারী মেয়েকে পূজা করতে হবে।
খ )  মঙ্গলবার হনুমানজির মন্দিরে পুজা দিতে হবে ও হনূমান চালিশা শুনতে হবে।
গ )  প্রতি শনিবার কালী মন্দিরে কালো আঙ্গুর দান করতে হবে।
ঘ )  প্রতি সোমবার শিব লিঙ্গমের পূজা করতে হবে।


দ্বিতীয় চরণ -  শনিদেব ধনু রাশিতে যখন অবস্থান করছে তখন সেটি এই রাশির দ্বিতীয় চরণ ধরা হবে। এই সময়টিতে যা যা নিয়ম মানতে হবে।


ক)  প্রতি শনিবার বটগাছের গোড়ায় কাঁচা দুধ ঢালতে হবে।
খ )  আটা দিয়ে গুলি বানিয়ে মাছকে খাওয়াতে হবে বা নদীতে বিসর্জন দিতে হবে।
গ)  বোট গাছের গোড়ার মাটিতে কাঁচা দুধ দিয়ে ভিজিয়ে সেই মাটি দিয়ে নিজের কপালে তিলক পরলে সুফল লাভ হয়।


তৃতীয় চরণ -  শনিদেব যখন মকর রাশিতে অবস্থান করবে তখন তা ধনু রাশির ক্ষেত্রে তৃতীয়া চরণ বলা হবে। এই সময়ে যা যা নিয়ম মানতে হবে তা হলো। 


ক)  হনূমান চালিশা একটি বই , মঙ্গলবার হনূমান মন্দিরে দান করতে হবে।
খ )  প্রতিদিন হনুমানজির মন্দিরে পুজা দিতে হবে ও হনূমান চালিশা শুনতে হবে।
গ )  ইন্দ্রনীল বা ঘোড়ার খুরের আংটি মাধ্যমেতে ধারণ করতে হবে।
ঘ )  প্রতি মঙ্গলবার পাটল বর্ণের সিঁদুর হনূমান মন্দিরে দান করতে হবে।  


মকর রাশির জাতক বা জাতিকা হলে।


প্রথম চরণ -  শনিদেব যখন ধনু রাশিতে অবস্থান করবে তখন তা মকর রাশির সাড়েসাতির প্রথম চরণ বলে ধরা হবে।  এই সময়ে সাড়েসাতি থেকে বাঁচার উপায়। 
ক)  শনিবার ৪টি শুকনো নারকেল নদীর জলে ভাসালে সাড়েসাতির প্রভাব কাটবে। 
খ )  প্রতি শনিবার বাচ্চাদের ডেকে মিষ্টি হালুয়া খাওয়াতে হবে। 
গ )  প্রতি সোমবার নাম গোত্র বলে শিব লিঙ্গমের মাথায় কাঁচা দুধ ঢালতে হবে। 


দ্বিতীয় চরণ -  শনিদেব যখন মাকার রাশির ওপর দিয়ে বিচরণ করবে তখন তাকে দ্বিতীয়  চরণ বলা হবে। এই সময়ের থেকে বাঁচতে কিছু নিয়ম মানতে হবে। 


ক)  শনিবার এক শিশি সুরমা কোনো নির্জন স্থানে পুঁতে দিতে হবে বা জলে ভাসিয়ে দিতে হবে। 
খ )  আটা দিয়ে মিষ্টি রুটি বানিয়ে শনিবার ৩ টে  কুকুরকে খাওয়ালে শুভ ফল পাওয়া যায়।
গ )  প্রতি মঙ্গলবার পাটল বর্ণের সিঁদুর হনূমান মন্দিরে দান করতে হবে।
ঘ )  কালো কুকুর পুষলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। 


তৃতীয় চরণ -  শনিদেব যখন গোচরে কুম্ভ রাশিতে অবস্থান করবে তখন তাকে মকর রাশির তৃতীয় চরণ বলা হবে। এই সময়ে যা যা নিয়ম মানতে হবে তা হলো। 


ক)  যেকোনো একটি শনিবার এক শিশি মদ নিয়ে স্রোতের জলে বিসর্জন দিতে হবে।
খ )  প্রতি দিন হনূমান চালিশা পঠ  করতে হবে ও  ইন্দ্রনীল বা শনি যন্ত্রম ধারণ করতে হবে। 
গ )  নৌকার পেরেক দিয়ে আংটি বানিয়ে ডানহাতে মাধ্যমতে ধারণ করতে হবে।


কুম্ভ রাশির জাতক বা জাতিকা হলে।


প্রথম চরণ - গোচরে শনিদেব মকর রাশিতে অবস্থান করলে তখন তাকে কুম্ভ রাশির উপর সাড়েসাতির প্রথম চরণ বলা হবে। এই সময়ে যা যা নিয়ম মানতে হবে। 
ক)  শনিবার এক শিশি সুরমা কোনো নির্জন স্থানে পুঁতে দিতে হবে বা জলে ভাসিয়ে দিতে হবে।
খ )  আটা দিয়ে মিষ্টি রুটি বানিয়ে শনিবার ৩ টে  কুকুরকে খাওয়ালে শুভ ফল পাওয়া যায়। 
গ )  প্রতি মঙ্গলবার পাটল বর্ণের সিঁদুর হনূমান মন্দিরে দান করতে হবে।  
ঘ )  শনিবার নিরামিষ খাবার খাওয়াই ভালো। 


দ্বিতীয় চরণ -  শনিদেব কুম্ভ রাশিতে থাকলে তখন তাকে দ্বিতীয় চরণ বলা হয়ে। এই সময়ে যা যা নিয়ম মানতে হবে। 


ক)  কুমারী মেয়েকে পূজা করতে হবে।
খ )  শনি ব্রত পালন করতে হবে সাথে হনুমানজীর পূজা করতে হবে। 
গ )  প্রতি শনিবার কালী মন্দিরে কালো আঙুর  দান করতে হবে। 
ঘ )  প্রতি দিন শিব লিঙ্গমে কাঁচা দুধ ঢেলে  " ওঁ  নমঃ শিবায়ঃ " মন্ত্র ৩ বার বলতে হবে মনে মনে।


তৃতীয় চরণ -  শনিদেব মীন রাশিতে যখন অবস্থান করে তখন তা কুম্ভ রাশির ক্ষেত্রে তৃতীয় চরণ বলা হবে।  এই সময়ে যা যা করতে হবে।


ক)  শনিবার এক শিশি মাদক স্রোতের জলে বিসর্জন দিতে হবে।
খ )  হনূমান চালিশা প্রত্যাহা পাঠকরতে হবে বা শুনতে হবে ও শনি যন্ত্রম ধারণ করতে হবে।
গ )  নৌকার পেরেক দিয়ে আংটি বানিয়ে ডানহাতে মাধ্যমতে ধারণ করতে হবে।
ঘ )  কুমারী পূজা করতে হবে।
ঙ)  শনিবার শনি ব্রত পালন করতে হবে এবং হনুমানজীর পূজা করতে হবে। 


মীন রাশির জাতক বা জাতিকা হলে। 


প্রথম চরণ -  শনিদেব যখন কুম্ভ রাশিতে অবস্থান করবে তখন তাকে মীন রাশির প্রথম চরণ বলা হয়। এই সময়ে যা যা করতে হবে। 

ক)  শনিবার কাঁচা বাদাম দেন করতে হবে। 
খ )  প্রতি মঙ্গলবার নারকেল মন্দিরে দান করতে হবে। 
গ )  প্রতি শনিবার ২টি নারকেল শনি মন্দিরে বা কালী মন্দিরে দেন করতে হবে। 


দ্বিতীয় চরণ -  শনিদেব যখন মীন রাশিতে অবস্থান করবে তখন তাকে সাড়েসাতির দ্বিতীয় চরণ বলা হবে। এই সময়ে যা যা করতে হবে। 


ক)  প্রতিদিন গানপাতির পূজা করলে সাড়েসাতির প্রভাব কেটে যায়।
খ )  কুমারী পূজা করতে হবে কোনো শুভ তিথিতে।
গ )  প্রতি শনিবার ৩টি হাতে বানানো রুটি কালো কুকুরকে খাওয়াতে হবে। 


তৃতীয় চরণ -  গোচরে শনিদেব মেশ রাশিতে অবস্থান করলে তখন তা মীন রাশির তৃতীয় চরণ হবে। এই সময়ে যা যা মানতে হবে। 


ক)  ইন্দ্রনীলা মাধ্যমাতে ধারণ করতে হবে বা ঘোড়ার নালের আংটি ধারণ করতে হবে। 
খ ) বিউলির ডাল প্রতি শনিবার হাতের এক মুঠো নিয়ে স্রোতের জলে বা পুকুরের জলে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং আরেক মুঠো বিউলির ডাল পাখি কে খাওয়াতে হবে।
গ ) মঙ্গলবার সকালে স্নান করে উঠে শুদ্ধ বস্ত্রে হনূমান চল্লিশা পাঠ করলে সাড়েসাতির প্রভাব সম্পূর্ণরূপে কমানো সম্ভব হয়।



*** উপরের নিয়ম গুলির বাইরে আরেকটি নিয়ম খুবই কার্যকরী তা হলো -  কালোতিল একমুঠো , কালো মাষকলাই এক মুঠো , লোহার টুকরো ২টি ,সরিষার তেল ও সাথে ২টি টাকা নাম গোত্র সহ শনি মন্দিরে দেন করলে শুভ ফল পাওয়া যাবে। 

শনিদেবের মন্ত্র :  ওঁ শং শানৌশ্চরায় নমঃ। 





No comments:

Post a Comment