মানব জীবনে শনি গ্রহের প্রভাব ও নীলা রত্ন | Impact of Saturn on Human Lives and Blue Sapphire - Astro Luck

Breaking

November 20, 2018

মানব জীবনে শনি গ্রহের প্রভাব ও নীলা রত্ন | Impact of Saturn on Human Lives and Blue Sapphire

রবি পুত্র শনি দেবের নাম শোনা মাত্রই মানুষের ভয়ের সঞ্চার হয়। কারণ মহা দুঃখ দাতা, শনি অশুভ থাকলে দুঃখ, কষ্ট, বাধা- বিপত্তি ও ভাগ্য বিড়ম্বনার মধ্যে জড়িত হয়ে, জাতক বা জাতিকা মহা অশান্তির সম্মুখীন হয়ে থাকে।
প্রাচীন ঋষিরা শনি গ্রহকে সূর্যপুত্র বলতেন। কিন্তু পিত ও পুত্রের মধ্যে সদ্ভাব ছিল না। আগে জানি  শনির কয়েকটি নাম - রবি পুত্র , শনৈশ্চর , মন্দ , মন্দগামী প্রভৃতি।
শনি গ্রহের শুভাশুভ অবস্থানে ওপর মানুষের ভাগ্য কিছুটা নির্ভরশীল , আবার শনি শুভ থাকিলে মানুষকে অশান্তির হাত থেকে রক্ষা করে ঐশ্বর্য শালী , ভাগ্যবান , জ্ঞানী , ধার্মিক ও সাধক করিয়া তুলেন।
দীর্ঘদিনের পরীক্ষা নিরীক্ষা ও গবেষণা দ্বারা দেখাগেছে শনি গ্রহকে এতো ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। শনি হলেন পরম যোগী গ্রহ , শনি আরাধ্য দেবী দক্ষিণ কালী। শনি অশুভ সময়ে মানুষ দক্ষিনা কালীর পূজা নিয়মিত ভক্তি সহকারে করিলে মানুষের প্রতি শনির শুভ ফল দান করে। সরল জীবন যাপন , মেঝেতে শোয়া , কালো পোষাক ব্যবহার করা , নীলা ধারণ করিলে শনি গ্রহটি তুষ্ট হয়।

শনি শুভ থাকলে : মানুষ ভাগ্যবান , ধনবান , বুদ্ধিমান , কর্তাব্যপরাযান এবং সান্ত , দূরদর্শিতা , ধৈর্য , গম্ভীর , গুপ্ত বিদ্যায় ও তন্ত্র বিদ্যায় পারদর্শী হয়েথাকে।

শনি অশুভ থাকলে : জীবনে বাধা-বিঘ্ন , ঝামেলা , অশান্তি , বিবাদ ,  আত্মীয়াদের সাথে বিবাদ , আত্মীয় বিচ্ছেদ , শোক ও দুঃখ , আলস্য , উৎসাহ হীনতা , ঋণগ্রস্ত , ভাগ্য হানি , স্বার্থপরতা , আত্মহত্যার প্রবণতা , প্রতিহিংসা , উদ্দেশহীন ভ্রমণ , নৈরাশ্য , দুশ্চিন্তা।

শনির রোগ : বায়ু রোগ , পক্ষাঘাত , হাত - পা কাপা , যক্ষা , বাতরোগ , মূর্ছারোগ , হিক্কা , হিস্টিরিয়া , টিউমার , পায়ের রোগ , শ্রবণ শক্তি কম হাওয়া , শ্লেষা ও হাপানী প্রভৃতি রোগ দেখা যায়।

 শনির পেশা : লোহার অলঙ্কার, চা, কয়লা ব্যবসায়ী, খনিজ তেল, কারখানার যন্ত্রপাতি, দালালী , সরিষা ও তিলের ব্যবসা , সীসা , যানবাহন , কায়িক পরিশ্রম , কৃষি ও দিনমজুর , চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী।

দ্বাদশ ভাবে শনির অবস্থান -
লগ্নে থাকলে : জন্মের সময় শনিগ্রহ লগ্নে অবস্থান করলে, জাতকের শরীর খুব দুর্বল হয়।  অকাজে কুকাজে মূল্যবান সময় নষ্ট করবে। দুর্নাম ও মানহানি হবে। আলস্যতা থাকবে ভরপুর মাত্রায়। তবে তুলা লগ্নে শনি শুভ হলে - জাতক কিংবা জাতিকা ধনবান , ধার্মিক ও জ্ঞানী হবে।

দ্বিতীয়ে  থাকলে : ধনস্থানে শনি অবস্থান করলে জাতক বা জাতিকার চক্ষু চঞ্চল হবে এবং লোহা, কাঠ, সীসা, ব্যবসায়ে ধনবান হয়। আর যদি শনি অশুভ অবস্থায় থাকে জাতক বা জাতিকা চোর হয়। আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে মতবিরোধ হয়। কটূভাষী ও  জাতক বা জাতিকা সারাজীবন দরিদ্র হয়েই থাকে। আত্মীয় ও বন্ধুদের সহিত মতবিরোধ হয়। অশুভ শনির প্রতিকারে ইন্দ্রনীল ধারণ করিলে সুফল পাওয়া যায়।

তৃতীয়ে থাকলে : ভাতৃ স্থানে শনি থাকা শুভ। জাতক জীবনে উন্নতি করে, যানবাহন যুক্ত, পরিবার যুক্ত , প্রতাপশালী হয়। কিন্তু ভাগ্যোউন্নতিতে হতে অনেক বাধা আসবে।  তবে জাতক বা জাতিকার ভ্রাতার সহিত মিল থাকে না বা ভ্রাতৃ সুখ নষ্ট হয়।

চাতুর্থে থাকলে : চতুর্থ বা মাতৃ স্থানে শনি অবস্থান করলে অশুভ ফল দান করে। জাতক বা জাতিকার মাতৃ সুখ হয় না। এদের বন্ধু-বান্ধব থাকে না বা কম থাকে। বিকলাঙ্গতা , বায়ুরোগী , ঘর ভাঙ্গা হয়েথাকে , জমিজমা ও গৃহ নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হবে। গৃহত্যাগী হয় ও জীবনে নানা দুঃখ ভোগ করেথাকে। নীলা ধারণ করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। তবে তুলে লগ্নে চাতুর্থে শনি থাকলে অশুভ হয় না।

পঞ্চমে থাকলে : পুত্র স্থানে বা পঞ্চম স্থানে শনি থাকলে পুত্র হানি হয়। যদি কোন পুত্র জীবিত থাকে তাহলে সে উগ্র স্বভাবের ও অবাধ্য হবে। জাতকের বা জাতিকার বুদ্ধি খারাপ দিকেই চালিত হয়। সম্পূর্ণ জীবন শোক দুঃখে ভোরে যায় এদের ও ধর্মের দিকে আকর্ষণ বা ভক্তি একদমই থাকবে না। অশুভ শনির জন্যে নীলা ধারণ করা উচিত। তবে তুলা ও বৃষ লগ্নের পঞ্চমে শনি শুভ হয়।

ষষ্ঠে থাকলে : শত্রূ  স্থানে শনি থাকলে শুভ ফল দিয়ে থাকে। জাতক বা জাতিকা জীবনে বিশাল সুখী হয়। জীবনে কোনো জিনিসের অভাব হয় না। কিন্তু এদের নিচু মানসিকরাত হবে। মামার সুখ জাতকের বা জাতিকার হবে না।

সপ্তমে থাকলে : পত্নী স্থানে শনি থাকলে অশুভ ফল দান করে।  জাতক বা জাতিকা খুব অভিমানী ও অহংকারী হবে। সংসারে অশান্তি লেগেই থাকবে। ব্যবসায় ক্ষতি সম্মুখীন হতে পারে। জীবনে দুই বা তিন বার বিবাহের যোগ ভেঙ্গে যাবে। স্ত্রীর অঙ্গ হানির বা স্ত্রী হানি যোগ থাকবে। জীবনে সবসময় উৎসাহ হানি, উৎসাহ হীন, শোখ দুঃখ ভোগী হয়েথাকে। অশুভ শনি গ্রহের জন্যে নীলা ধারণ করা উচিত।

অষ্টমে থাকলে : শনি দেব অষ্টমে থাকলে জাতক বা জাতিকা অলস হয়ে থাকে। চক্ষু রোগে কষ্ট পায়। এরা হবে দুঃখ ভোগী। এরা সর্বদা বিদেশে বসবাস করেথাকে। এরা অসৎ সঙ্গে সাথে মেলামেশা করেথাকে।  নিচ জাতিদের সাথে ঝামেলায় জড়াতে পারে। দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে। অষ্টম স্থানে শনি সবসময় অশুভ হয়ে থাকে। এই অবস্থায় ইন্দ্রনীল ধারণ করা উচিত।

নবমে থাকলে : ভাগ্য স্থানে শনি দেব অবস্থান করলে, সেহবে দাম্ভিক, ক্রোধী, নপুংসক বা বীর্য হীন, আত্মভিমানী, ধর্মে অবিশ্বাসী, পাপাত্মা, কুপথগামী, লজ্জাহীন হয়ে থাকে। শনি নীচস্থ বা অস্তগত হলে প্রয়াসেই স্বধর্ম ত্যাগ করে। এরা কোনোদিন তীর্থ ভ্রমণ করতে পারে না। আর শনি যদি তুঙ্গস্থা হয় জাতক রাজতুল্য হয়ে থাকে। জাতক বা জাতিকা হবে ভাগ্যবান, জ্ঞানী ও ধার্মিক।

দশমে থাকলে : কর্ম স্থানে শনি অবস্থান করলে জাতক বা জাতিকা হবে জ্ঞানী, ক্রোধী, ঐশর্যশালী হয়ে থাকে।  আর যদি অশুভ শনি নীচস্থ বা অস্থাগত থাকে, পিত ও মাতার হানি হয় পাশাপাশি কর্মহানি ও জাতক বা জাতিকা সারা জীবন কর্মহানি, শোক - দুঃখ ভোগ করে থাকে। জন্ম কুণ্ডলীতে শনি অশুভ হলে নীলা রত্ন ধারণ করা উচিত হবে।

একাদশে থাকলে : আয়স্থানে শনি অবস্থান করলে জাতক বা জাতিকা এটি শুভ ফল পেয়ে থাকে। এই যোগ যদি জন্ম কুণ্ডলীতে থাকলে মানুষ ভাগ্যবান , অর্থশালী , নাম-যশ থাকবে প্রচুর। তবে পুত্র বধূ বা  জামাতার ক্ষতি হবে। সন্তান হানির যোগও তৈরী হয়। যেমন জাতক বা জাতিকা ধনবান ও ঐশ্বর্য শালী  হয়ে থাকে তেমনি বিদ্ধ বয়সে রোগ, শোক ভোগ হয়ে থাকে।

দ্বাদশে থাকলে : ব্যয় স্থানে শনি অবস্থান করলে জাতক বা জাতিকা হবে ব্যয়শীল, ধনহীন। এরা পক্ষাঘাতে কষ্ট পেয়ে থাকবে সাথে অস্ত্রপ্রচার হয়ে থাকবে। জাতক হবে কাপুরুষ , নির্লজ্জ। জাতক বা  জাতিকা হবে দুঃখভোগী ও দেশত্যাগী।

করতলে শনির ক্ষেত্র : জোতিষ শাস্ত্র মতে মাধ্যমা অঙ্গুলির নিচের অংশটি শনির ক্ষেত্রে। উচ্চ-প্রশস্ত কাটাকাটি বিহীন , পরিষ্কার ও শুভরেখা থাকলে শনি স্থান শুভ দোর হবে। আর যদি শনির ক্ষেত্র অপ্রশস্ত , নীচস্থ , কাটাকাটি যুক্ত , অপরিষ্কার , কাল দাগ যুক্ত , তিল , যব ও ক্রস যুক্ত হলে শনির স্থান অশুভ বলা যায়।
শনির ক্ষেত্র অশুভ হইলে শনি গ্রহকে প্রতিকার করা অবশ্যই কর্তব্য। তাহাতে শুভ হইবে।

শনির মহারত্ন হল - নীলকান্ত মনি বা নীলা
রত্ন শাস্ত্র মতে নীলকান্ত মনি বা নীলার কিছু ভাগ রয়েছে , যেমন - ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , বৈশ্য ও শূদ্র মতে - নীলা , শ্বেত , রক্ত , পীত  ও কৃষ্ণবর্ণ , বর্ন অনুসারে চারিত্রিক ভাগ ও হয়ে থাকে।

নীলা বহু প্রকারের হয়েথাকে - রক্তমুখী , ইন্দ্রনীল , ময়ূরকন্ঠী , অপরাজিতা , পিতাম্বরী , চন্দ্রমুখী , সূর্যমুখী প্রভৃতি।  যে নীলা দুধের পাত্রে রাখলে দুধের বার্ন নীলাভ আকার ধারণ করবে , সেটি হলো উৎকৃষ্ট মানের নীলা। আবার তৃণ খন্ডকে আকর্ষণ করে সেটি হবে উৎকৃষ্ট নীলা।

ধরণের যোগ্য নীলা : যে নীলা উজ্জ্বল , গোলাকার , নির্মল , মসৃন , তৃণ কে আকর্ষণ করে ওজনে ভারী,  নীল রং বিশিষ্ট সেটি শুভ নীলা ধরা হয়ে থাকে।
 
ধারণে অযোগ্য নীলা : যে নীলায় উজ্জ্বলতা নেই , রুক্ষ , ফাটা , গর্ত ও বিন্দু  যুক্ত , হালকা , খসখসে , এই সকল দোষযুক্ত নীলা ধারণ করা উচিত নয়। অশুভ নীলা ধারণ করলে শুভ ফলের পরিবর্তে অশুভ ফল দেন করে এবং জাতক বা জাতিকার জীবনে ক্ষতি হয়।

নীলা সম্বন্ধে মানুষের মনে একটি ধারণা সব সময় রয়েছে - নীলা ধারণ করলে এক রাজা করে অথবা ফকির করে দিয়ে জাতক বা জাতিকার জীবনে সমস্যা করে দেবে। তাই নীলা নামটি শোনা মাত্রই অনেকেই ভয় পায়। তবে ভাই পাওয়ার অনেক কারণ আছে। যে জাতক বা জাতিকা নীলা ধারণ করেছেন প্রয়াজন না থাকা সত্ত্বেও - তাদের উপকারের বদলে ক্ষতি হয়েছে জীবনে। আবার যে জাতক বা জাতিকার জন্ম কুণ্ডলীতে শনি খারাপ অবস্থান করেছে বা নিচেস্টা হয়েছে তারা নীলা ধারণ করে সুফল লাভ করেছে এবং তারা আজ রাজার মতন জীবন যাপন করছে।

নীলা ধারণ করার আগে পরীক্ষা করে ধারণ করা উচিত। বহু পরীক্ষা করে করে দেখাগেছে যে জাতক বা জাতিকার নীলা প্রয়াজন নেই যাদের তারা নীলা ধারণ করলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে অশুভ ফল শুরু হয়ে যায়। যেমন - যোগাযোগে ব্যার্থতা , গা হাত পা ব্যাথা করতে শুরু করবে , মাথা বেথা শুরু হবে , থেকে থেকেই জ্বর জ্বর ভাব বা জ্বর হবে , খারাপ স্বপ্ন ও দিবা স্বপ্ন দেখা , সকল কাজে অসফলতা , ঝামেলা-অশান্তি লেগেই থাকবে জীবনে , দুর্ঘটনা সম্মুখীন হাতে হবে।  নীলা ধরনের পর এই সমস্যা গুলি হলে জানতে হবে নীলা ধরণের জন্যেই এইসব হয়েছে।

আবার দেখাগেছে যে জাতক বা জাতিকা নীলা পরীক্ষার জন্যে ধারণ করেছে তাদের - শুভ যোগাযোগ, মনে আনন্দ , শুভ স্বপ্ন , শুভ খবর আসা , রাতে ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটলে নীলা ধারণ করা চলবে। তাই প্রথমে নীলা পরীক্ষা মূলক ভাবে ধারণ করা উচিত তাতে নীলার শুভ অশুভ ফল দান করছে নাকি তা বোঝা যাবে। তাই নীলা নামটি শোনা মাত্রই ভয়ের কোনো কারণ নেই , ভালো জাতিষির পরামর্শ নিয়ে নীলা ধারণ করলে সুফলই দান করে। জন্ম কুণ্ডলীতে শনি অশুভ হলে নীলা রত্ন ধারণ করলে শনি দেব সন্তুষ্ট হয় এবং জাতক বা জাতিকার জীবন সুন্দর হয়।

মামলা-মোকর্দমা , চাকরি হইতে বাধা , অকাল মৃত্যু রোধ , অশান্তি , ঝামেলা , ব্যবস্যায় ক্ষতি , কলহ - বিবাদ , বাধাবিঘ্নতা , ধৰ্ম কাজে বাধা এই সব অশুভ অবস্থার জন্যে নীলা ধারণ করা উচিত। কিন্তু কোন জাতির বা কোন গাত্রের নীলা ধারণ করবেন তা একজন ভালো জোতিষির পরামার্শ নিয়েই ধরেন করা উচিত। 



 














No comments:

Post a Comment